ষোড়শ অধ্যায় গ্রীষ্ম গোত্রের প্রথম প্রজন্মের বর্ম
গ্রীষ্ম拓 নিজে এসে উপস্থিত হলে, পুরোহিত ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সাথে গুহা বদলাবেন এবং সেখানে বাস করবেন।
বৃদ্ধ পুরোহিতের মুখে প্রশান্তির ছাপ, তিনি আদৌ গোত্র পরিচালনা করতে চান না, পূর্বে বাধ্য হয়েই দায়িত্ব নিয়েছিলেন, এখন গ্রীষ্ম拓 প্রধান হলে সেটাই সবচেয়ে উত্তম।
‘‘চলে যাও, আমাকে পুরোহিত বিদ্যার সাধনায় ব্যাঘাত করো না।’’
এটাই ছিল পুরোহিতের মূল কথা।
নিজের গুহায় ফিরে দেখলেন,缰 প্রবীণ আর洪 প্রধান সেখানে উপস্থিত, তাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন তারা।
‘‘প্রধান।’’
‘‘বসো।’’ গ্রীষ্ম拓 হাত ইশারায় সবাইকে বসতে বললেন, গুহার মধ্যে বড় পায়ে হেঁটে আগুনের পাশে বসে পড়লেন।
缰 প্রবীণ বললেন, পাশে জমা থাকা গাঢ় সবুজ আঁশের বর্মের স্তূপ থেকে একটি তুলে নিলেন।
‘‘প্রধান, ফেং বানিয়েছে এই বর্ম।’’
বর্মটা নিজেই পরলেন তিনি। সত্যিই ভারী, তবে এই ওজনও সাধারণ যোদ্ধাদের জন্য বহন করা কঠিন নয়।
পুরো বর্মটি বিশেরও বেশি আঁশ দিয়ে তৈরি, পশুচামড়ার দড়িতে গাঁথা, সামনে-পেছনে কোনোমতে রক্ষা দেয়।
নিচের আঁশটি ধরে টেনে দেখলেন, গাঁথা চামড়ার দড়ি বেশ মজবুত, ছোট আঙুলের চেয়েও পুরু, চকচকে, দৃঢ়।
তথাপি, উপাদান ও নকশার দিক থেকে এই বর্ম বেশ অমসৃণ ও অপরিণত, কেবল বর্মের আকারটুকু আছে।
তবু, এই বর্ম গোত্রের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা।
বাম হাত তোলেন, ডান কাঁধের আঁশের ফাঁকে আঙুল ঢোকান, গ্রীষ্ম拓 বললেন, ‘‘缰 প্রবীণ, বর্মের আঁশের ভিতরটা আরেকটু মসৃণ করা যায়, কিংবা চামড়া বসানো যায়, তাহলে পরার সময় আরামদায়ক হবে।’’
বর্মটি খুলে দেখলেন, খসখসে আঁশ শরীরকে কেটে দিচ্ছে, কোনো কোনো আঁশের কোণ এত ধারালো যে রক্তাক্ত দাগ ফুটে উঠেছে।
বর্ম রেখে,缰 প্রবীণ এগিয়ে দিলেন একটি হাতবর্ম, যা আসলে ছোট আঁশে ঢাকা পশুচামড়া, কোনায় ফুটো করা, হাতে পেঁচিয়ে চামড়ার দড়িতে বাঁধা।
এভাবে হাত-পা রক্ষা করা যায়, সাথে অর্ধবর্মে, সামান্য হলেও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
‘‘প্রধান, ফেং বিভিন্ন পশুর চামড়া ব্যবহার করেছে, তার মধ্যে ফুল-পাইথনের চামড়া সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এতে ছোট আঁশ রয়েছে, যা সুরক্ষা বাড়ায়।’’
গ্রীষ্ম拓 মাথা নাড়লেন, বর্মগুলো একসাথে রাখলেন, তবে এগুলো কতটা মজবুত তা পরীক্ষা করাই বাকি।
‘‘বর্ম বানানোর দায়িত্ব এখন থেকে আপনার, গুহায় সিংহ-ছাপ পশুর আঁশ ও হাড় আছে, সেগুলো নিয়ে যান, চেষ্টার কোনো কমতি রাখবেন না, যাতে গোত্রের সব যোদ্ধা বর্ম পরতে পারে।’’
‘‘ঠিক আছে।’’
‘‘আরো একটা কথা, সবাইকে পাথরের বর্শা বানাতে বলুন।’’
এ কথা বলেই, পাশে পড়ে থাকা একটি অমসৃণ পাথরের অস্ত্র হাতে তুলে নিলেন; দেড় মিটার লম্বা, বাহুর চেয়েও পুরু, অসমান ও দাগে ভরা, শুকনো কালো রক্তে মাখা।
লম্বা হলেই ভালো নয়, অতিরিক্ত লম্বা হলে ভেঙে যেতে পারে।
‘‘প্রধান, কতগুলো বর্শা লাগবে?’’
缰 প্রবীণ জিজ্ঞেস করলেন, আগের মতো সবাই নিজে নিজে বানাতো; সব পাথর দিয়ে বর্শা বানানো যায় না।
ছোট ছুরি বানানো সহজ, বড় অস্ত্রের জন্য পাথর বাছাই কঠিন।
‘‘শিকারি দলের প্রত্যেকের জন্য একটি আবশ্যক, যত বেশি, তত ভালো।’’
একটু ভেবে গ্রীষ্ম拓 বললেন, ‘‘যদি যথেষ্ট পাথর না থাকে, ছোট বর্শা বানাও।’’
দুই হাতে মাপে দেখালেন—এক মিটারের মতো।
‘‘পাথর আছে, তবে কাটা কষ্টকর।’’
‘‘আমাকে দেখাও।’’
সময় নষ্ট না করে, গ্রীষ্ম拓 তাদের সঙ্গে উপত্যকার একটি ছোট গুহায় গেলেন। গুহাটি ছোট, গভীরতা মাত্র দুই মিটার, ধূসর শিলার মাঝে হালকা নীলাভ পাথর ছড়িয়ে।
একটা পাথরের দিকে ইশারা করে缰 প্রবীণ বললেন, ‘‘প্রধান, এটিই青耀石, বেশ মজবুত ও নমনীয়, ভাঙে না।’’
গ্রীষ্ম拓 হাতে ধরা পাথরের বর্শা দিয়ে দেয়ালে আঘাত করলেন, সাথে সাথে বর্শা দেয়ালে গেঁথে গেল, তিনি শক্তিমান যোদ্ধা, চাইলেই এ ধরনের শিলাখণ্ড ভেঙে ফেলতে পারেন।
কিন্তু সাধারণ যোদ্ধারা এখানে থেকে青耀石 কেটে অস্ত্র বানানো সহজ নয়, তারা洪-কে দিয়ে কাটাতে সাহস পায় না।
বিপুল荒ভূমিতে অনেক পাথর আছে, যেগুলো অস্ত্র বানানোর উপযোগী, এগুলো খনিজের মতো মাটির নিচে বা শিলায় মিশে থাকে।
বর্শা তুলে নিতেই শিলাখণ্ড ছিটকে গেল, ছোট একটা青耀石 পড়ল, কিন্তু তা বেশ ছোট।
‘‘洪, লি-দের নিয়ে এসে 青耀石 কাটো!’’
গ্রীষ্ম拓-এর নির্দেশে洪 দ্বিধা করলেও অমান্য করলেন না, সঙ্গে সঙ্গে লি-দের নিয়ে এলেন।
‘‘এখানে 青耀石 কাটো।’’
তার নির্দেশে 洪 ও সঙ্গীরা কাজে নেমে গেল, গুহায় গুঞ্জন উঠল।
‘‘缰 প্রবীণ, কাটার পর পাথরগুলো গোত্রবাসীদের ভাগ করে দাও, সবাই যেন磨 করতে পারে।’’
আগে সবাই শুধু শিকার করত, বাকি সময় অলস থাকত, এখন গোত্রের ঐক্যবদ্ধ শক্তি কাজে লাগাতে হবে।
একজন দিনে একটা অস্ত্র磨 করতে পারে, কিন্তু সবাই মিলে শতাধিক বানাতে পারে।
সেই দিন শিকারিরা বের হলো না, 洪 ও লি-রা 青耀石 কাটছে, যোদ্ধারা সবাই পাথর নিয়ে磨 করছে।
গ্রীষ্ম拓 গোত্রবাসীকে চারভাগে ভাগ করেছেন—প্রথম ভাগ শিশু, তাদের ছোট ছোট পাথর দিয়ে খেলা করতে দেওয়া, যেন তারা দুষ্টুমি না করে।
নারীরা একদল জমি চাষ করছে, আলু রোপণ করছে, ফল হবে কি না জানা নেই, তবু চেষ্টা করতেই হবে।
গ্রীষ্ম拓 ভাবেন, আলু চাষ শুরু মাত্র, পরে অন্য খাওয়ার উপযোগী গাছ-পালা চাষ হবে।
কিন্তু চাষে গোত্রের কারও জানা নেই, পরীক্ষার জন্যই আলু বেছে নেওয়া।
আরেকদল নারী ফেং-এর নেতৃত্বে বর্ম বানাচ্ছে, এটাও গ্রীষ্ম拓-এর ভাবনা থেকে।
বাকি সব পুরুষ পাথর磨 করছে, যার যার গুহায় বা বাইরে গিয়ে।
এখন গোত্রে সবচেয়ে অলস কেবল শিশুরা, আর প্রধান নিজে।
উপত্যকার এদিক-ওদিক দৌড়ানো ছেলেমেয়েদের দেখে কিছুটা অসহায় বোধ করলেন; বড় গোত্রে হলে এদের শরীরচর্চার ব্যবস্থা থাকত, দুঃখ শুধু, এখানে নেই।
নব্বইবার মনে পড়ল, মুছে যাওয়া সেই ব্যবস্থা।
মাথা নাড়লেন, কড়া স্বরে বললেন, ‘‘দেখছি, পরে ডাকাতি করতেই হবে।’’
...
পরদিন প্রভাতে, গ্রীষ্ম拓洪-দের ডেকে পাঠালেন।
‘‘প্রধান।’’
গুহায় কয়েক জন বলিষ্ঠ যোদ্ধার উপস্থিতি।
‘‘缰 প্রবীণ, গতকাল磨 করা বর্শা কি বিলি হয়েছে?’’
‘‘হ্যাঁ।’’
গ্রীষ্ম拓 উঠে বাইরে গেলেন, শিকারি দল প্রস্তুত, সবার হাতে বা কাঁধে পশুচামড়ার দড়িতে বাঁধা বর্শা।
তাদের মধ্যে পাঁচজনের গায়ে গতকাল বানানো বর্ম পড়া।
বর্শার আকার-প্রকার নানা, কিন্তু মাথা ঠিকঠাক ধারালো, গ্রীষ্ম拓-এর নির্দেশ ছিল সেটাই।
‘‘আজ আমি তোমাদের সঙ্গে শিকারে যাব।’’
সবাই চমকে উঠল, গ্রীষ্ম拓 কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বর্শা হাতে এগিয়ে গেলেন।
‘‘缰 প্রবীণ, সবাইকে বর্ম ও বর্শা বানাতে উৎসাহ দাও।’’
গ্রীষ্ম拓 সামনে,洪 ও লি-রা সঙ্গে, পিছনে বিশজন বলিষ্ঠ যোদ্ধা।
‘‘প্রধান, চার পাহাড় পার হলেই赤火 বন।’’
赤火 বন এবার শিকারের লক্ষ্যস্থল। আগে洪 যেতে সাহস করতেন না, এখানে হিংস্র জন্তু ভয়ংকর।
ঘন বনে, শিকারি দল প্রথম পাহাড় পেরোতেই সতর্কতা নিয়ে চলতে লাগল।
বনের গাছশিকর আকাশ ছোঁয়া, গাছের পাতা মাটিতে স্তূপ, হালকা পচা গন্ধ ছড়ায়।
গ্রীষ্ম拓 বর্শা শক্ত করে ধরলেন, চারপাশ দেখলেন, এখানে জন্তু তাকে প্রধান বলে ছাড়বে না।
এ জগতে জন্তু আগের জীবনের চেয়ে অনেক বেশি হিংস্র ও প্রবল।
সবচেয়ে সাধারণ জন্তুও, আগের জীবনের বনের রাজাকে হার মানাবে।
মানুষের চেয়ে উঁচু ঘাস সরিয়ে, গ্রীষ্ম拓 চারদিক দেখলেন; তারা পাহাড় ডিঙোলো না, পাহাড়ের গা বেয়ে চলল।
হঠাৎ, দূরে একটানা চটপটে ছায়া, গাছের লতায় ধরে, কয়েক ঝাঁকিতে গ্রীষ্ম拓-এর সামনে।
‘‘প্রধান, সামনে কোনো জন্তু নেই।’’
নেমে আসা লু গ্রীষ্ম拓-কে বলল।
তারা চার পাহাড় ঘুরে এসেছে, সামনে赤火 বন, দূর থেকে রক্তাভ। দেখে মনে হয় আগুন লেগেছে।
‘‘আবার দেখো।’’
সবার আড়াল নিশ্চিত করে, গ্রীষ্ম拓 বললেন। লু আবার বনভিতরে মিলিয়ে গেল।
赤火 বনে হিংস্র জন্তু ভুরি ভুরি, অনেকেই ভয়ংকর শক্তির অধিকারী, এখানে দুর্বল জন্তু শিকার করাও কষ্টকর।
এবার বেশি সময় গেল না, লু আতঙ্কে দৌড়ে ফিরে এলো।
গর্জন!
পেছনে হিংস্র গর্জন, বাতাসে রক্তের গন্ধ, একটা কালো বিশাল নেকড়ে, বাঁকা শিং, পাঁচ-ছয় মিটার লম্বা, গা ঘুটঘুটে আঁশে ঢাকা।
নেকড়ের চোখ কালো, হিংস্র দীপ্তি, শরীরজুড়ে কালো ধোঁয়ার মতো ঘনত্ব, এক লাফে গাছের গায়ে আছড়ে পড়ল, গাছ ভেঙে গেল।
লু লতায় দোল নিয়ে পাশ কাটাল, গ্রীষ্ম拓-এর নির্দেশ মনে রেখেছে, হিংস্র জন্তু এলে তার পাশের দিকটা গোত্রবাসীদের দেখাতে হবে।
এদিকে দূরে লুকিয়ে থাকা গ্রীষ্ম拓 ও অন্যরা ইতিমধ্যে বর্শা তোলে, শক্তি বর্শায় ভরপুর, নেকড়ে কাছে আসার অপেক্ষা।
‘‘ছোড়ো!’’
গ্রীষ্ম拓-এর চোখে ঝলসে উঠল কঠোরতা, হাতের বর্শা ছুড়ে দিলেন।
সাথে সাথে, বিশজনেরও বেশি যোদ্ধা একসাথে বর্শা ছুড়ে দিল!