ফাহুয়া ছিল ফাযিয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা। সে ফাযিয়ে বসবাস করতো, নিয়ম মেনে চলতো, শিষ্টাচারকে শ্রদ্ধা করতো, শাসন ও নিয়ন্ত্রণে ছিল দক্ষ, এবং ফাযিয়ের বিধিবিধান তার করতলগত ছিল। ব্লানগা ছিল ব্লানিয়ের স
মৃদু বাতাস বইছিল, আকাশ ছিল পরিষ্কার, আকাশী নীল। উপত্যকাটি ছিল সবুজ ও সতেজ, প্রাণবন্ত গাছপালায় ভরপুর। উপত্যকার দিকে চলে গেছে কেবল একটি সরু পথ, যার সংকীর্ণ পথটি খাড়া পর্বতগাত্র দ্বারা বিদ্ধ, যেখান দিয়ে কেবল একফালি আলো প্রবেশ করে—এ কারণেই এর নাম "আকাশের রেখা"। তবুও, এই আপাতদৃষ্টিতে জনশূন্য পথে, মানুষের এক অন্তহীন সারি সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রত্যেকে তাদের ডান হাত বুকে রেখেছিল, তাদের মুখ ছিল গম্ভীর ও ভক্তিময়। মিছিলটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, এক পা এগোতেই কয়েক মিনিট সময় লেগে যাচ্ছিল। তবুও, কেউ কোনো শব্দ করছিল না; তারা নিখুঁত শৃঙ্খলায় এগিয়ে যাচ্ছিল। এই দলটির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল: প্রায় প্রতিটি শিশুর সঙ্গেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছিল। এই শিশুরা, যাদের বয়স স্পষ্টতই মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর, তারাও ছিল শান্ত ও স্থির, তাদের অভিব্যক্তিও ছিল সমান গম্ভীর, যদিও মাঝে মাঝে তাদের চোখে এক জ্বলন্ত তীব্রতা ফুটে উঠত। খিদে পেলে তারা নীরবে তাদের সঙ্গে থাকা শুকনো খাবার খেত; তেষ্টা পেলে তারা পিঠের বাঁশের নল থেকে জল পান করত। কিন্তু তারা যা-ই করুক না কেন, ‘আকাশের সারি’-তে প্রবেশ করার মুহূর্ত থেকেই তাদের ডান হাত বুকের সাথে চেপে ধরা ছিল, কখনও নামানো হয়নি। ফাহুয়া তিন দিন তিন রাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়েছিল। তার বয়স তখনও মাত্র পাঁচ বছর, এবং যেহেতু সে বিশ্রাম নিতে পারছিল না ও কেবল সামনে এগিয়েই যাচ্ছিল, তাই তার চোখ দুটো ছিল কিছুটা শূন্য। তবুও, তার চোখের গভীরে এক অদম্য সংকল্প রয়ে গিয়েছিল। সারিটি এগোতে লাগল। আরেক পা ফেলতেই, তার আগেকার সংকুচিত দৃষ্টি হঠাৎ খুলে গেল। গাছপালা আর মাটির সুগন্ধ বয়ে আনা এক তাজা বাতাস তার দিকে ছুটে এল। মনে হচ্ছিল যেন কোনো বিশেষ শক্তি তার আত্মাকে শুদ্ধ করছে, এক মুহূর্তে তার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে। উপত্যকাটি ছিল খুবই সমতল, কেবল ঘাস আর ঝোপঝাড়